আমাদের অনেকেই ডিম রান্না করার আগে সেটি ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন নই। অথচ চিকিৎসকরা বলছেন, ডিম সঠিকভাবে না ধুলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে স্থানীয় বাজার বা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে কেনা ডিমের ক্ষেত্রে।

ডিম ধোয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ :

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বা খামারের ডিম সাধারণত সংগ্রহের পর জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এসব ডিমের খোসায় ময়লা, পালক বা পাখির মল লেগে থাকতে পারে। ফলে খোলসে থাকা ব্যাকটেরিয়া হাত, রান্নার পাত্র বা খাবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষায়, “ডিমের খোলস শক্ত হলেও এটি ছিদ্রযুক্ত। ফলে খোসার জীবাণু সঠিকভাবে না ধুলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।” তাই রান্নার আগে প্রবাহিত পানির নিচে আলতোভাবে ডিম ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি :

স্থানীয় বা বাড়ির খামারের ডিমে সালমোনেলা, ই-কোলাই এবং ক্যাম্পিলোব্যাকটার নামের ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা বেশি। এসব জীবাণু সাধারণত পাখির মল, নোংরা বাসা বা অপরিষ্কার পরিবহনের মাধ্যমে ডিমের খোসায় আসে।

এই ব্যাকটেরিয়া যদি খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা জ্বরের মতো খাদ্যবাহিত অসুখ দেখা দিতে পারে। তাই ডিম ধোয়ার পাশাপাশি হাত ধোয়া ও রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত জরুরি।

প্যাকেটজাত বনাম স্থানীয় ডিম :

চিকিৎসকরা জানান, দোকানে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত ডিম সাধারণত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এসব ডিম মান নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা করা হয় এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে না পারে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের ডিম তুলনামূলকভাবে তাজা হলেও সাধারণত ধোয়া হয় না এবং ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়-যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ :

চিকিৎসকরা বলেন,

“ডিম রান্নার আগে অবশ্যই ধুয়ে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি তা খোলাবাজার থেকে কেনা হয়। এতে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।”

তাদের পরামর্শ, যদি সম্ভব হয় প্যাকেটজাত ও মানসম্মত ডিম কেনাই নিরাপদ বিকল্প।